April 17, 2026, 6:52 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার পলিয়ানপুর সীমান্ত এলাকায় চার দিনের ব্যবধানে দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর পলিয়ানপুর সীমান্তের ইছামতী নদী থেকে রথীকান্ত জয়ধর (৪৬) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারস্থলটি শূন্যরেখা থেকে প্রায় ১০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। এর আগে সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে একই সীমান্ত এলাকায় আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
নিহত রথীকান্ত জয়ধর গোপালগঞ্জ জেলার কোড়ালিপাড়া থানার দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে চার দিন আগে উদ্ধার হওয়া অপর মরদেহটির পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ইছামতী নদীতে দুর্গন্ধ পেয়ে এলাকাবাসী খোঁজ নিতে গিয়ে কচুরিপানার নিচে ভাসমান একটি মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশ ও বিজিবিকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
মহেশপুর ৫৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিকুল আলম জানান, সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া মরদেহটির অবস্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ১৩ এপ্রিল আরেকটি মরদেহ পাওয়া যায়। আগের মরদেহটির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তিনি বলেন, সর্বশেষ উদ্ধার হওয়া মরদেহটি কয়েকদিন আগের বলে ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘসময় পানির নিচে থাকায় মরদেহটি পচে ফুলে গিয়েছিল এবং উপুড় হয়ে ভাসছিল।
তিনি আরও জানান, ১৩ এপ্রিল উদ্ধার হওয়া মরদেহের বিষয়ে বিজিবি ইতোমধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে সেখান থেকেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কোটচাঁদপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সায়েম ইউসুফ জানান, বৃহস্পতিবার উদ্ধার হওয়া মরদেহটির শার্টের পকেটে একটি পাসপোর্ট পাওয়া যায়। সেই পাসপোর্টের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে পাসপোর্টে কোনো ভিসা বা গেটওয়ে পাসের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, উভয় মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপর অজ্ঞাত মরদেহটির পরিচয় শনাক্তে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে একই সীমান্ত এলাকায় দুটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।